জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অস্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
‘রক্তস্নাত জুলাইয়ে স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে রোববার সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পটভূমি, রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও মাতৃভূমির সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। বাংলাদেশের সুখ-দুঃখ ও সংকটে প্রবাসীরা অতীতেও পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এমপি। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও আসন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
নুরুল হক নুর বলেন, প্রবাসীদের জন্য সরকারি সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু, বিমানবন্দরে পৃথক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এবং নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালে বিশেষ লাউঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং দেশে যাতায়াতের সময় হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এমপি এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান, কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি এফ এম তৌহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী।
বক্তারা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের যে প্রত্যাশা প্রকাশ পেয়েছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে শহীদদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।