বাংলাদেশে স্ত্রী রেহানা পারভীনের মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার আওলাদ হোসেনকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। বুধবার ব্রিসবেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ১৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী আওলাদের আইনজীবী তরিক দিব আদালতকে জানিয়েছেন, জামিন আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতে আরও সময় প্রয়োজন। পরে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার যে অভিযোগ আওলাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তাঁর মক্কেল তা অস্বীকার করছেন এবং আদালতে এই অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়বেন। গ্রেপ্তারের ঘটনায় আওলাদ বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন বলেও জানান তাঁর আইনজীবী।
জামিন পেলে আওলাদ যে ঠিকানায় থাকবেন, সেটি নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। ওই ঠিকানায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির নাম মামলার ঘটনার সূত্রে এসেছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখন কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। আওলাদের চাকরিসংক্রান্ত একটি প্রত্যয়নপত্রসহ আরও কিছু প্রয়োজনীয় নথিও সংগ্রহ করছেন তাঁর আইনজীবীরা।
এসব কারণে বুধবার জামিন আবেদন না করে আরও সময় চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কমনওয়েলথ প্রসিকিউটর আদালতকে জানিয়েছেন, আওলাদের জামিনের বিরোধিতা করা হবে। ফলে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে হেফাজতেই থাকতে হবে। ওই দিন ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে তাঁর হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে একাধিক দফায় ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি পাঠানোর ব্যবস্থা করেন আওলাদ। পুলিশের দাবি, স্ত্রী রেহানা পারভীনের মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশে চলমান তদন্ত প্রভাবিত করা এবং পুলিশের নথি থেকে নিজের নাম সরানোর চেষ্টায় ওই অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। তবে বাংলাদেশের কোনো সরকারি বা পুলিশ কর্মকর্তা ওই অর্থ নিয়েছেন এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পায়নি অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ।রেহানার মৃত্যুর তদন্তে বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ।
আওলাদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের ভাষ্য, ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আদালতে নেওয়ার ঘটনা সংস্থাটির জন্য এটিই প্রথম।
এদিকে স্ত্রী রেহানার মৃত্যুর সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথাও অস্বীকার করেছেন আওলাদ। তাঁর আইনজীবী বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, রেহানার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি।
উল্লেখ্য: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ও পাঁচ সন্তানের মা রেহানা পারভীন ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে সেপ্টেম্বরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ পুলিশ। তাঁর মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশে মামলা হওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াতেও তদন্ত শুরু হয়।
বাংলাদেশে রেহানার মৃত্যুর ঘটনায় আওলাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশও রেহানার মৃত্যুকে সন্দেহজনক হিসেবে তদন্ত করছে। এই তদন্ত চলাকালেই বাংলাদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠানোর তথ্য সামনে আসে। পরে সেই অর্থের লেনদেন নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আওলাদকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এখন মামলাটির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ১৬ অক্টোবরের জামিন শুনানি। সেদিন পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে থাকতে হবে।