মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং গরুতর আহত হয়ে নিহতের বড় ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় পৌর এলাকার বড়গাছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকারী ময়নুলকে আটক করছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি বড়গাছ গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে ও শুভ নামে ১৪ মাস বয়সী এক সন্তানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম (২৯)।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই মো. সাহেল জমি কেনার জন্য দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুলকে ডেকে আনেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন জমি বিক্রিতে বাধা দেন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জহিরুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে জখম করা হয়। পরে তাদের প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিওমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মধ্যরাতে মৃত্যু হয় জাহাঙ্গীরের।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা ও স্বজনরা।
নিহতের চাচা সুন্দর আলীর অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলায় ব্যবহৃত দা ও লাঠি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। মামুন, মাহমুদ ও ময়নুল এই তিন ভাই এবং তাদের ভাগ্না সামি ও ভগ্নিপতি খয়ের মিলে আমার ভাতিজাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবার অভিযোগে ময়নুলকে আটক করা হয়েছে। বাকিরা আত্মগোপণে আছেন। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।