সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
কানাইঘাট সীমান্তে এয়ারগান-ওয়াকিটকিসহ ২১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ জামালগঞ্জে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা জামালগঞ্জে বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে মনিটরিং সভা সুনামগঞ্জে ৮৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি বিএনপির সিলেটে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা ও শাস্তির দাবি তাহিরপুর-মধ্যনগর সড়কে ভোগান্তি, পাঠাবুকা ব্রিজে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল পৌনে ৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য, আটক ১ কমলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে এক যুবক নিহত, আটক ১ এক ব্যক্তিত্ব, বহুমাত্রিক পরিচয়: আইন, সাহিত্য ও সংগীতে ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ বিয়ানীবাজার সীমান্তে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ একজন আটক
advertisement
সিলেট বিভাগ

এক ব্যক্তিত্ব, বহুমাত্রিক পরিচয়: আইন, সাহিত্য ও সংগীতে ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ

একাধারে বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, কবি, গীতিকার, সুরকার ও রবীন্দ্র গবেষক। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের গবেষক ও সংগ্রাহক, রোটারিয়ান, পুঁথিপাঠক, দক্ষ সংগঠক এবং মানবাধিকারকর্মী। এতগুলো পরিচয় যাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত, তিনি ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও সংগীতচর্চায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অত্যাচারিত ও নির্যাতিত মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মময় জীবন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

বহুমুখী কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বে রয়েছে অসাধারণ নম্রতা, ভদ্রতা ও বিনয়। মিষ্টভাষী ও সহজ-সরল এই মানুষটি নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে আইন অঙ্গন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন। আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখা, সম্পাদনা ও প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৬০। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখার মাধ্যমে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাঁর যুক্তিনির্ভর ও তথ্যসমৃদ্ধ লেখনী বিভিন্ন দাবি আদায়েও ভূমিকা রেখেছে। কবিতা রচনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও রয়েছে তাঁর আগ্রহ। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় কাজ করার পরও গীতিকবিতার জগতে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই একসময় শুরু করেন গান লেখা, সুর সৃষ্টি এবং নিজের কণ্ঠে গান পরিবেশনের চর্চা।

২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় গীতিকবিতার জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছাত্র অমিতাভ চক্রবর্তী রনি। করোনাকালে রনি দেড় শতাধিক গান রচনা করেন। প্রিয় ছাত্রের এই সৃজনশীলতা ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, ছাত্র যদি এত গান লিখতে পারে, তাহলে তিনি কেন চেষ্টা করবেন না? এই ভাবনা থেকেই গানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি।

গান লেখার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে গানবিষয়ক বই পড়তে শুরু করেন। গানের কথার গঠন, লেখার ধরন এবং একটি লেখাকে কীভাবে পূর্ণাঙ্গ গানে রূপ দেওয়া যায়, তা বোঝার চেষ্টা করেন। এ কাজে বিভিন্ন শিল্পী ও গীতিকারের কাছ থেকেও পরামর্শ নেন। এরপর শুরু হয় লেখার চর্চা। এক-দুই লাইন করে লিখতে লিখতে একসময় পূর্ণাঙ্গ গান রচনায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। নিজের লেখা গান বিভিন্ন গীতিকারের কাছে পাঠিয়ে সেগুলোর মান ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মতামত চাইতেন। তাঁদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে উৎসাহিত হন। এভাবে একের পর এক গান লিখতে লিখতে তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় একশতে পৌঁছায়।


গান লিখতে গিয়েই নিজের মধ্যে সুর সৃষ্টির প্রতিভা আবিষ্কার করেন তিনি। গানের কথা লেখার সময়ই সুর নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ গান তৈরির চর্চা গড়ে ওঠে। নিজের লেখা গানগুলোর মান যাচাই করার জন্য তিনি প্রথমেই সেগুলো পাঠাতেন তাঁর প্রিয় ছাত্র শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের জনপ্রিয় প্রভাষক রনদ্বীপ চৌধুরী লিংকনের কাছে। গানের কথা ও সুরের সমন্বয় কেমন হয়েছে, কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে—এসব বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইতেন। প্রশংসা ও ইতিবাচক মন্তব্য পেলে নতুন উদ্যমে আরেকটি গান তৈরির কাজে হাত দিতেন। এভাবে নিজের লেখা প্রায় ২০টি গানে সুরারোপ করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

পেশাদার সংগীতশিল্পীর মতো গান গাওয়ার চেয়ে নিজের লেখা ও সুরের মধ্য দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ। তাঁর প্রত্যাশা, নিজের কথায় ও সুরে মৌলিক গান তৈরি হবে, যেখানে প্রতিফলিত হবে তাঁর নিজস্ব চিন্তা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতা। তাঁর কাছে গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মনের খোরাক, অনুভূতি প্রকাশের ভাষা এবং আত্মার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের একটি শিল্পমাধ্যম। গানের মধ্য দিয়ে মানুষ আনন্দ ও প্রশান্তি খুঁজে পায়, জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে পারে। আর সেই উপলব্ধি থেকেই সংগীতের পথে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে চান তিনি।


গানের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের সৃষ্টিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় থেকে ইতোমধ্যে তাঁর দুটি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। বই দুটি হলো ‘যেতে হয় এক রঙ্গে’ ও ‘জন্মিলে মরিতে হয়’। নিজের রচিত গীতিকবিতাগুলো সংরক্ষণ এবং পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বই দুটি প্রকাশ করেছেন তিনি। ভবিষ্যতেও আরও গানের বই প্রকাশের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। নিজের লেখা ও সুর করা মৌলিক গান মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে এবং মানুষের জীবনে আনন্দ, অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর।


ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ ১৯৭২ সালের ১৬ জুন ভাটি অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আজিমনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি এমএসসি, এলএলএম, পিজিডি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন ল' কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সিলেট জজ কোর্টে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তাঁর স্ত্রী রাহিমা সুলতানা মনি একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁদের একমাত্র সন্তান আবরার ফাইয়াজ বন্ধন একজন চিকিৎসক।

শিক্ষকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি লেখালেখি, গবেষণা, সাহিত্যচর্চা, সংগীত সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের কর্মপরিধি বিস্তৃত করেছেন তিনি। একজন রোটারিয়ান, পুঁথিপাঠক, সংগঠক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য-উপকরণ সংগ্রহের কাজেও যুক্ত রয়েছেন। মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নির্যাতিত মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রতিও রয়েছে তাঁর বিশেষ আগ্রহ। পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয় আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদের জীবনকে একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। আইনজীবী হিসেবে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন, অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছেন, লেখক ও গবেষক হিসেবে জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখছেন, আর কবি ও গীতিকার হিসেবে মানুষের অনুভূতি ও জীবনবোধকে শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। একটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখা তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে করোনাকালে গান লেখা শুরু করে সুর সৃষ্টি ও কণ্ঠ দেওয়ার চর্চায় যুক্ত হওয়া প্রমাণ করে, শেখার এবং নতুন কিছু সৃষ্টির কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ইচ্ছা, অধ্যবসায় ও সৃজনশীলতা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায়েই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জ্ঞানচর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের আনন্দ ও পরিতৃপ্তি। নিজের কর্মময় জীবনের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করেন তিনি। আইন পেশায় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্ব, সাহিত্য ও গবেষণায় নিবেদন এবং সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ—সব মিলিয়ে ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মময় জীবন তুলে ধরে শেখার আগ্রহ, অধ্যবসায়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে কীভাবে একজন মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন।

▐ এই সম্পর্কিত আরো

কানাইঘাট সীমান্তে এয়ারগান-ওয়াকিটকিসহ ২১ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

জামালগঞ্জে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

জামালগঞ্জে বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে মনিটরিং সভা

সুনামগঞ্জে ৮৬ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত দাবি বিএনপির

সিলেটে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা ও শাস্তির দাবি

তাহিরপুর-মধ্যনগর সড়কে ভোগান্তি, পাঠাবুকা ব্রিজে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ

সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল পৌনে ৮ লাখ টাকার চোরাই পণ্য, আটক ১

কমলগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে এক যুবক নিহত, আটক ১

এক ব্যক্তিত্ব, বহুমাত্রিক পরিচয়: আইন, সাহিত্য ও সংগীতে ড. এম শহীদুল ইসলাম শহীদ

বিয়ানীবাজার সীমান্তে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ একজন আটক