সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ৩৬ দিন পর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিলগালা অবস্থায় থাকা তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দানবাক্স ও ডেগ খোলার পর পাওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব তুলে ধরেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।
পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সর্বশেষ মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা করে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রীও পাওয়া যায়।
এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়।
আর ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।