মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক চা-শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) থেকে উত্তোলন করা ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৬২ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত শ্রমিকের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত তৎকালীন কেরানি বাবু কিষোন চন্দ্র দাস ছানা বাবুর ওপর ২৬ হাজার টাকা দণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাগান ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক পঞ্চায়েতের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠক শেষে শ্রমিক পরিবারের হাতে ওই টাকা তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে অবস্থিত ন্যাশনাল টি কোম্পানির আওতাধীন বিজয়া চা-বাগানের নিয়মিত শ্রমিক জারিয়া খাড়িয়ার পিএফ ফান্ডের ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৬২ টাকা ২০২৪ সালের আগস্টে বিজয়া চা-বাগানের হিসাবে জমা করে ন্যাশনাল টি কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন কেরানি বাবু কিষোন চন্দ্র দাস ছানা (বর্তমানে পারকুল চা-বাগানের কেরানি) ওই টাকা উত্তোলন করে প্রকৃত শ্রমিককে না দিয়ে নিজের কাছে রাখেন।
দীর্ঘদিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ চা-শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উঠে এলে ছানা বাবু ওই টাকা নিয়ে উপস্থিত হন এবং নিজের ভুল স্বীকার করে সবার কাছে কড়জোড়ে ক্ষমা চান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজয়া চা-বাগানের বর্তমান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির, জয়চন্ডী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, উপজেলা বিএনপির নেতা ময়নুল হক বকুল, পাঁচপীর জালাই পঞ্চায়েতের মুরব্বি জয়নাল মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা রাজন আহমদ, শিপু মিয়াসহ বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে উপস্থিত সবার সম্মতিতে প্রয়াত শ্রমিক জারিয়া খাড়িয়ার স্ত্রী মলিনা খাড়িয়া, সন্তান লক্ষণ খাড়িয়া ও ছোট ভাই রবি খাড়িয়ার হাতে পিএফ ফান্ডের ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৬২ টাকা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এতদিন টাকা নিজের কাছে রাখার কারণে ছানা বাবুর ওপর আরও ২৬ হাজার টাকা দণ্ড আরোপ করা হয়।
টাকা ফেরত পেয়ে জারিয়া খাড়িয়ার পরিবারের সদস্যরা বাগান ব্যবস্থাপকসহ বৈঠকে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাবেক চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু ও উপজেলা বিএনপির নেতা ময়নুল হক বকুল বলেন, “শ্রমিকের ঘাম ঝরানো টাকা কেউ আত্মসাৎ করে নেবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ছানা বাবু যে কাজটি করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি পুরো টাকা ফেরত দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি তার ওপর আরও ২৬ হাজার টাকা দণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এতে উপস্থিত সবাই সন্তুষ্ট।”
বিজয়া চা-বাগানের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বিজয়া চা-বাগানে যোগদানের প্রায় এক বছর আগে ঘটনাটি ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোম্পানি সবসময় শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। সবার সহযোগিতায় টাকা উদ্ধার করে জারিয়া খাড়িয়ার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।