শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

শাল্লায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাড়া, মুখোমুখি দুই পক্ষ

নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা অনুসরণ না করে ২০২৫ সালের শুরুতে ৫ বছরের জন্য শাল্লা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নিচতলার দুটি রুম সন্দীপন তালুকদার সুজন ও বাদল দাস নামক দু'জনকে ভাড়া দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক সুলতান। তাদের চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। তবে তাদেরকে কোন ধরনের নোটিশ বা তাদের চুক্তি বাতিল না করেই তিনতলা বিশিষ্ট ওই কমপ্লেক্সের ১ম ও ২য় তলার সবগুলো রুম ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলার জন্য ভাড়া দিয়ে দেন দিরাইয়ের রনি সূত্রধর নামের একজনকে। পাঁচ বছরের জন্য রনি দাশকে ভাড়া দিয়ে চুক্তি সম্পাদন করেন দেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস।

কোন ধরনের উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই রনি সূত্রধরকেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কমপ্লেক্স ভাড়া প্রদান কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়ভাবে বির্তকও তৈরি হয়েছে। 

এক পক্ষ অথ্যাৎ রনি সূত্রধরের দাবি, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য চুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, প্রায় দেড় বছর আগে ভাড়া নিলেও গত ২৯ আগস্ট ভবনের দুটি কক্ষে বাদল,সুজন সহ বেশ কয়েকজন জোরপূর্বকভাবে ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে বলে রনি সূত্রধরের অভিযোগ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলমোহরের পরিচালক রনি সূত্রধরের লোকজন সেখানে কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। আবার বাদল দাস ও সন্দীপন তালুকদারের লোকেরা রনি সূত্রধরের ফার্নিচার জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে সেখানে প্রেসক্লাবের কার্যালয় উদ্ভোদন অনুষ্ঠানও করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। 

প্রাপ্ত চুক্তিপত্র অনুযায়ী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ‘প্রস্তাবিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ স্থাপনের জন্য রনি সূত্রধরের সঙ্গে ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই চুক্তি সম্পাদন করা হয়। চুক্তিতে মাসিক ভাড়া ২২ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা জামানতের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

চুক্তিপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, ভাড়া নেওয়া স্থান শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রথম পক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভবনের অন্য কোনো তলা, ছাদ, বারান্দা বা খালি জায়গা ব্যবহার বা দখল করা যাবে না। পাশাপাশি অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থান হস্তান্তর বা উপ-ভাড়া দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চুক্তির পর থেকে তারা ক্লিনিকের জন্য ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজ করে আসছেন এবং এ পর্যন্ত ২০-২৫ লক্ষ টাকাও ইনভেস্ট করেছেন। এর মধ্যে আবার গত ২৯ আগস্ট ‘শাল্লা উপজেলা প্রেসক্লাব’-এর নামে দুটি কক্ষে সাইনবোর্ড লাগানো হলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। 

ক্লিনিকপক্ষের অভিযোগ, বাদল চন্দ্র দাস ও সন্দীপন দাস সুজন নামে দুজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন। এবং প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড সাঁটানোতে বিপ্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বিপ্লব রায়েরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। রনি সূত্রধরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালু হলেও বিপ্লব রায়ের ডায়াগনস্টিক ব্যবসাতে ধ্বস নামতে পারে। এবং রনি সূত্রধরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি যাতে স্থাপন না হয় সে জন্য বিপ্লব রায় সব ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছে বলে  স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আবার বাদল দাস ও সন্দীপন তালুকদার সুজনের নামে দু'টি রুমের ভাড়া প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন ভাড়া দেননি বলে জানান ভাড়া প্রদান কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী। 

রনি সূত্রধর বলেন, দু'টি রুম বাদে অন্যান্য সকল রুমে ফার্ণিচারের কাজ শেষ। কিন্তু ইউএনও স্যার এখনো কোন সমাধান না দেওয়ায় আমার কাজ আটকে আছে। আমি ২০-২৫ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই ইনভেস্ট করেছি। অপরপক্ষের বাদল দাস বলেন, আমরা ভাড়া দিতে গেলেও সমাজসেবা কর্মকর্তা ভাড়া নিচ্ছে না। আমাদেরকে পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। চুক্তিপত্রও রয়েছে। 

এ বিষয়ে কমপ্লেক্স ভাড়া প্রদান কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, “আমরা রনি সূত্রধর নামের একজনকে ক্লিনিকের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দিয়েছি। প্রেসক্লাবের নামে যারা সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়েছিলেন বলে জানি। তবে তারা এখন পর্যন্ত কোনো সিকিউরিটি দেবে তো দূরের কথা এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ করেননি।

ভাড়া প্রদান কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমার আগের স্যার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, কিন্তু কেউ টেন্ডার ড্রপ করেনি। এখন কাউকে পাইনি বিধায় ডেকে এনে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এগুলো কোন বিষয়ই না, সমন্বয় করে সব সমাধান করে দেওয়া হবে। 

এবিষয়ে ফোন দিয়েও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খানের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এই সম্পর্কিত আরো