রাজধানী ঢাকার উত্তরখানে চাঞ্চল্যকর মোক্তার আলী (৫৩) হত্যা মামলার ১০ নম্বর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আমির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-৯ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শাফেলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। গ্রেপ্তার আমির হোসেন সুনামগঞ্জ সদর থানার শাফেলা গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, নিহত মোক্তার আলী সুনামগঞ্জের জালালগঞ্জ থানার ইনাতনগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরখান থানার খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট বিকেলে আমির হোসেনের মেয়ে ফাতেহার সঙ্গে মোক্তার আলীর মেয়ে তাইবার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই দিন রাতে আমির হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোক্তার আলীর বাসায় গিয়ে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ।
পরদিন ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোক্তার আলী কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে আমির হোসেনের নির্দেশে অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে র্যাব জানায়। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্বজনেরা তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও মারধর করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোক্তার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ১২।
মামলা দায়েরের পর র্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জ ও র্যাব-১-এর সিপিসি-২ উত্তরা-এর যৌথ দল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শাফেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।