শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ছাতকে চিকিৎসকের চেম্বারে সিরিয়াল নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত

সুনামগঞ্জের ছাতকে চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত পর্যন্ত ছাতক পৌরসভার হাসপাতাল রোড (মণ্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী সড়কে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন দে ফার্মেসিতে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. হেদায়েত হোসেন রোগী দেখছিলেন। সেখানে রোগীর সিরিয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সহকারী অনিক আহমেদ (১৭) ও মোগলপাড়ার তাহমিনা আক্তারের (৩৮) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় হাসপাতাল রোড ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী, শিশু ও হাসপাতালে থাকা রোগীদের স্বজনরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।

খবর পেয়ে ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্তের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে আহত সাইম উদ্দিন (১৬) ও আল আমিন (২৯)কে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ ছাড়া মাসুম (২৯), শিমুল আহমদ (৩১), আং আহাদ (২৭), সাজু (২৬), আফিক হাসান (১৭), সুহেল আহমদ (২৬), আশরাফুল (২০), আলা উদ্দিন (২৩), সমর আলী (২৬), সাকমান আহমদ (১৯), ইদ্রিস (২০), বাবলু (৩০), হেলাল আহমদ (৪২), সাদিকুর (২৩), তানজিল আহমেদ (২৪), মাহফুজ মিয়া (২৪), ইসমাইল মিয়া (১৮), আইনুল হক (৩০) ও আনোয়ার হোসেন (৩৮)সহ ৬১ জনকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্য আহতদের বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে গিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সুমেন এবং ছাতক থানার এসআই মো. রোমেন, এএসআই মো. মাসুদ মিয়া, নায়েক সৌরভ পাল, কনস্টেবল মো. ফয়সাল ও স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আহত হয়েছেন। তাঁদেরও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মো. মুরছালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এই সম্পর্কিত আরো