আধুনিক সিলেটের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক, বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব জাতীয় নেতা আলহাজ আবুল হারিছ চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের কানাইঘাটে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও সিন্নি বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পবিত্র আসরের নামাজের পর কানাইঘাট বাজার জামে মসজিদে হারিছ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসল্লিদের মধ্যে সিন্নি বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হারিছ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর এবাদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হারিছ চৌধুরী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, পৌর কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রহিম ভরসা ও নুর হোসেনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে দোয়া পরিচালনা করেন কানাইঘাট বাজার জামে মসজিদের ইমাম হাফিজ মাওলানা জামাল উদ্দিন।
উল্লেখ্য, চারদলীয় জোট সরকারের সময় ক্ষমতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন আবুল হারিছ চৌধুরী। তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালের শুরুর দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লন্ডনের একটি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।
তবে মৃত্যুর পরও হারিছ চৌধুরীর পরিচয় গোপন রেখে দাফন করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে তার মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী আইনি লড়াই শুরু করেন। বাবার পরিচয় নিশ্চিত করা এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশে সাভারের একটি কবরস্থান থেকে হারিছ চৌধুরীর দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। পরে সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ফরেনসিক পরীক্ষার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষে হারিছ চৌধুরীর দেহাবশেষ তার ওসিয়ত অনুযায়ী নিজ প্রতিষ্ঠিত গ্রামের বাড়ির শফিকুর রহমান চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা প্রাঙ্গণে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনরায় দাফন করা হয়।