বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
উদ্বেগে অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরা - প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গোলাপগঞ্জে ৪ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন! হরিপুর গ্যাস ফিল্ড - টেন্ডার বাক্স সামনে, তবু দরপত্র দিতে পারলেন না ব্যবসায়ীরা সিলেটে পিকআপে মিলল ২৩ লাখ টাকার আইপিএস ও ব্যাটারি, আটক তিন কানাইঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ইউএনও শাল্লায় দুই পক্ষের বিরোধের অবসান জামালগঞ্জে পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার: শওকতুল ইসলাম শান্তিগঞ্জে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কার বিশ্বনাথে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা: আ.লীগ-ছাত্রলীগের ২০ জনের নামে মামলা পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া, একদিন পর ঢাকায় আবার গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ আ.লীগ হাজী স্বপন
advertisement
সিলেট বিভাগ

বাঁধ ভাঙার ক্ষত এখনো তাজা, হবিগঞ্জে ঘরে ফিরেই নতুন সংকটে মানুষ

হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ ঘরে। তবে ফিরে ভাঙা ঘর, কাদায় ভরা উঠান এবং পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী দেখে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। অনেকের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই ঘর পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগম ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের একটি কোম্পানির চাকরির সামান্য আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার। শুক্রবার রাতে বন্যার তীব্র স্রোতে তাদের একমাত্র কুঁড়েঘরটি ধসে পড়ে। বর্তমানে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

রানু বেগম বলেন, “চোখের সামনে ঘরটা ভেঙে পড়ল। কিছুই বের করতে পারিনি। কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, বিছানাপত্র—সব নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়ের সামান্য আয়ে সংসার চলে। এখন নতুন ঘর তুলব কীভাবে?”

একই গ্রামের আমেনা খাতুনের ঘরও বন্যায় ধসে গেছে। তিনি বলেন, “মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। সরকার সহায়তা না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।”

শুধু হাতিরথান নয়, কালীগঞ্জ, চরহামুয়াসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন গ্রামের চিত্র প্রায় একই। কোথাও ঘর ধসে পড়েছে, কোথাও কাদায় ভরে গেছে বসতভিটা। অনেক পরিবার এখনো ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছেন। কেউ ভেজা কাপড় শুকাচ্ছেন, কেউ নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী ও আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। রাতেই অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করলে মানুষ ঘরে ফিরতে থাকেন। তবে ফিরে দেখেন, আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, খাদ্যসামগ্রী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় সবকিছুই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষকের গবাদিপশুর খাদ্যও নষ্ট হওয়ায় নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।

এখনো নিচু এলাকার অনেক স্থানে কোমরসমান পানি রয়েছে। অনেক কাঁচা ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি।

চরহামুয়া গ্রামের বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, “বাঁধ ভাঙার আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। ঘরের কোনো জিনিসই রক্ষা করতে পারিনি।”

হাতিরথান এলাকার ফাহিম রহমান অভিযোগ করেন, দুই দিন ধরে অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পাননি। এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণসহায়তা সব এলাকায় পৌঁছায়নি।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজও চলছে।

যদিও বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, খাদ্যসংস্থান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে তাদের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

এই সম্পর্কিত আরো

উদ্বেগে অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরাপ্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গোলাপগঞ্জে ৪ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন!

হরিপুর গ্যাস ফিল্ডটেন্ডার বাক্স সামনে, তবু দরপত্র দিতে পারলেন না ব্যবসায়ীরা

সিলেটে পিকআপে মিলল ২৩ লাখ টাকার আইপিএস ও ব্যাটারি, আটক তিন

কানাইঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ইউএনও

শাল্লায় দুই পক্ষের বিরোধের অবসান

জামালগঞ্জে পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা

বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার: শওকতুল ইসলাম

শান্তিগঞ্জে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কার

বিশ্বনাথে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা: আ.লীগ-ছাত্রলীগের ২০ জনের নামে মামলা

পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া, একদিন পর ঢাকায় আবার গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ আ.লীগ হাজী স্বপন