রাস্তা নাকি পাহাড়ি ছড়া— তা চেনার কোনো উপায় নেই। চারপাশের ভাঙন আর খানাখন্দে ভরা পথটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর এখন এমনই বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ইউনিয়নের রাস্তাগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে ৪নং শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেক গ্রামের প্রতিটি রাস্তা এখন পুরোপুরি চলাচল অনুপযোগী। গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রধান চারটি রাস্তার সবকটির অবস্থাই চরম আশঙ্কাজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের ‘পূর্বটিলা’ এবং ‘মধ্যটিলা’ সড়ক দুটি বর্তমানে এতটাই বেহাল যে, সেখানে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দামালিছড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রাস্তাটির অবস্থা সবচেয়ে করুণ। চলমান মৌসুমে অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে রাস্তাটির একাংশ ধসে গেছে। স্থানীয়রা শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন যদি এখনই কোনো জরুরি উদ্যোগ না নেয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে পুরো রাস্তাটি ছড়ায় (পাহাড়ি খাল) রূপান্তর হতে পারে। ইতিমধ্যে রাস্তাটির চার ভাগের এক ভাগ অংশ ছড়ার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো সড়কটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা-জল আর ভাঙা রাস্তা মাড়িয়ে প্রতিদিন তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতেই পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ।
সবচেয়ে মানবিক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এলাকার গর্ভবতী নারীরা। রাস্তার চরম দুরবস্থার কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন তারা। ভাঙা রাস্তায় যাতায়াতের ঝাঁকুনিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ চললেও যেন দেখার কেউ নেই। অবিলম্বে এই সড়কগুলো টেকসই সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বড়চেক গ্রামের রাস্তার এই খারাপ অবস্থার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুতই এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’
ভুগতে থাকা শমশেরনগরের বড়চেক গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।