সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী/উপজেলা পর্যায়ের প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম প্রায় তিন মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে এলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সেবা নিতে এসে অনেকেই তাকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীরা শাল্লা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
মার্কুলি গ্রামের বাসিন্দা তাজেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন বছর আগে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর থেকে তিন বছর ধরে তার কাছে ঘুরছি। তিনি শুধু দেবেন বলে সময় পার করছেন। এখনো টাকা ফেরত দেননি, টিউবওয়েলও দেননি।’
তাজেল মিয়ার অভিযোগ, ‘এই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এ ধরনের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
কান্দখলা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়ারও একই ধরনের অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে রাশেদুল ইসলাম আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো টিউবওয়েল দেননি। গত তিন মাস ধরে অফিসে এসে তার দেখা পাচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছেন। তদন্তে যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’
হবিবপুর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ও সইজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ইসলামিক রিলিফ থেকে তারা দুটি টিউবওয়েল পেয়েছেন। তবে তাদের কাছ থেকেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, কিছুদিন পর নলকূপ দুটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের মেকানিক বিদ্যুৎ কুমার দাস মেরামত করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে আরও এক হাজার টাকা নিলেও নলকূপ মেরামত করা হয়নি।
ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেবাগ্রহীতারা শাল্লা সদরে জড়ো হয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভাগীয় একটি দল অভিযোগগুলো তদন্ত করে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ খালেকুজ্জামান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলী স্যারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমার জানামতে, রাশেদুল ইসলামকে হেড অফিসে একাধিকবার ডাকা হয়েছে। তার বদলির ফাইল প্রক্রিয়াধীন। চলতি মাসেই তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হবে।’
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।