সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নয়াবন্দর বাজার থেকে দাওরাই হয়ে পাটকুড়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার শুকনো অংশে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলায় আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। বড় গর্তে যানবাহন আটকে গিয়ে কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এই সড়ক দিয়ে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন।
বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও জরুরি রোগীদের সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজন খান বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে কয়েক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা জরুরি। নদীর পাড়ে গার্ডওয়াল নির্মাণ করে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি নির্মাণ করা হলে এটি টেকসই ও মজবুত হবে।’
সিএনজি চালক রমজান আলী বলেন, ‘নয়াবন্দর বাজারের পর থেকেই রাস্তা খুব খারাপ। এতদিন যাত্রীদের কথা চিন্তা করে গাড়ির ক্ষতি মেনে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করেছি। কিন্তু গত দুই মাসে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। এখন ওই পথে পরিবহনের গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’