সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেও এখনো সম্পূর্ণ বিল পাননি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। এতে ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় এক দশক ধরে প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ কবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের তাগিদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে অনেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ কেউ গবাদিপশু বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পরও পুরো বিল না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় শাল্লা উপজেলায় ৮৮ কিলোমিটার এলাকায় ১২৭টি প্রকল্পে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারির পর মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলার সব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
উদগল হাওরের কৃষক ও ৪৫ নম্বর পিআইসির সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান তৌফিক বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে বাঁধের কাজ শেষ করেছি। অথচ অর্ধেকেরও কম বিল পেয়েছি। বাকি বিল কবে পাব, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। শতভাগ কাজ করেও বিল না পাওয়ায় আমরা হতাশ।’
ভরাম হাওরের ২০ নম্বর পিআইসির সভাপতি শিশু সরকার বলেন, ‘কাজের সময় যেভাবে চাপ ও তাগিদ দেওয়া হয়, বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই আন্তরিকতা দেখা যায় না। শতভাগ কাজ শেষ করেও অর্ধেক বিল পাইনি। ফলে ঋণের বোঝা টানতে হচ্ছে। দ্রুত বাকি বিল পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, ‘জেলা কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কৃষকদের বিল পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট পিআইসিগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘খুব শিগগিরই পিআইসিগুলোর বকেয়া বিল ছাড় করা সম্ভব হবে।’
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, দ্রুত বকেয়া বিল পরিশোধ করা না হলে ভবিষ্যতে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে কৃষকদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ফসল সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।