ঘটনার তিন দিন পরেও পারামাট্টা নদীর সেই ঘাটে যেন ঝুলে আছে এক ভারী নীরবতা। যে ভাড়াকৃত নৌকায় চড়ে বাবা ও মেয়ে সেদিন নদীতে বেরিয়েছিলেন, তার পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষজন এখনও কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ান। শহরের ব্যস্ত জীবন স্বাভাবিক গতিতেই চললেও নদীর বুকে নিভে গেছে একটি শৈশবের আলো।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পারামাট্টা নদীতে বাবা ও শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও উদ্ধার হওয়া আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুকন্যাকে হত্যার পর পিতা নিজেও আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে করোনারের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ডিজিটাল তথ্য, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ জুন শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে সিডনির কনকর্ড এলাকার হেন অ্যান্ড চিকেন বে সংলগ্ন পারামাট্টা নদীতে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ, মেরিন ইউনিট ও জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধার করা হলেও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরে জানা যায়, তার সঙ্গে থাকা সাত বছর বয়সী কন্যা নিখোঁজ রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে ডুবুরি দল, মেরিন ইউনিট এবং আকাশপথে অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নদী থেকে শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, পরিবারটি সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েস্টমিড এলাকার বাসিন্দা ছিল এবং ঘটনার দিন তারা একটি ভাড়াকৃত নৌকা ব্যবহার করেছিলেন। শিশুটি পরিবারের একমাত্র সন্তান বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে এবং নৌকায় থাকা লাইফ জ্যাকেটগুলো ব্যবহার করা হয়নি। এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা সিডনিজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।