সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

মিমোর চিরকুটে শিক্ষকের নাম: নবীগঞ্জ থেকে সুদীপ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর রহস্যজনক মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। এ ঘটনায় মিমোর বাবার দায়ের করা মামলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।


গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা গ্রামে। তিনি নবীগঞ্জ কলেজের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় পৌঁছালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের সুদীপ চক্রবর্তী এমন ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারেন—তা এলাকাবাসীর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।


গত রবিবার রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ বা চিরকুট এবং মিমোর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিরকুটে মিমো শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং তার এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, "শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও আরেকজন ভালো থাকুক।"

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাসীরুল আমিন জানান, মিমোর বাবা তার মেয়ের মোবাইল ফোন ঘেঁটে শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের প্রমাণ পেয়েছেন। এমনকি গভীর রাতেও তাদের মধ্যে কথা হতো বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিমোর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার দেখায়।


বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, মিমো অত্যন্ত চঞ্চল ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এমন পথ বেছে নেবেন তা বিভাগের কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। শিক্ষকরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত চিরকুট এবং মোবাইল ফোনের তথ্যগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে মিমোর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু এবং এতে একজন শিক্ষকের জড়িত থাকার অভিযোগ ঢাবি ক্যাম্পাসসহ পুরো দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো