সিলেটের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অবাধে বালু ও পাথর লুটপাট বন্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর ও শাহ আরেফিন টিলাসহ জেলার ছয়টি এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটাপূর্ণ এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইসিএ ঘোষণার তালিকায় থাকা অন্য এলাকাগুলো হলো— রতনপুর, উত্তমছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর ও লালাখাল।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের এসব পাথর কোয়ারি ও পর্যটন এলাকাগুলো থেকে যান্ত্রিক ও অবৈধ উপায়ে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর ও ধলাই নদীর উৎসমুখে নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এছাড়া শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭ একর জায়গার পাহাড় কেটে বর্তমানে বড় বড় গর্তে পরিণত করা হয়েছে। এসব এলাকা রক্ষায় গত বছর উচ্চ আদালত থেকেও রুল জারি করা হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন এবং ইসিএ-এর সম্ভাব্য পরিধি নির্ধারণের জন্য একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই এলাকাগুলো সংরক্ষণে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, ১৩তম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জাতীয় উন্নয়নের দোহাই দিয়ে এই মুহূর্তে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় এসব স্থানকে ইসিএ ঘোষণার কাজ চলছে।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ কর্মীরা। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’-র সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব আবদুল করিম কিম বলেন, "জাফলংকে ২০১৫ সালে ইসিএ ঘোষণা করা হলেও সেখানে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ হয়নি। নতুন এলাকাগুলোর ক্ষেত্রেও যেন এমনটি না হয়। শাহ আরেফিন টিলার জীববৈচিত্র্য ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে; এখন ইসিএ ঘোষণা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।"
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে ইসিএ ঘোষণা করা হলে সেখানে মাটি বা পানির বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন, পাথর ও খনিজ উত্তোলন, বর্জ্য নিঃসরণ এবং পরিবেশ দূষণকারী শিল্প স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে দেশে মোট ১৩টি ইসিএ রয়েছে।
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করতে এই ঘোষণার পর কঠোর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।