সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বন্ধুদের হাতে নির্মমভাবে হামলার শিকার হয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল চৌধুরী মুর্শেদ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত মুর্শেদ বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উপশহর এলাকায় কোনো একটি বিষয় নিয়ে মুর্শেদের সঙ্গে তাঁর তিন বন্ধু নজরুল ইসলাম, সুবেল আহমদ ও বাহার আহমদের বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় ছাত্রদলের একজন সিনিয়র নেতার মধ্যস্থতায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল।
শনিবারের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ কাটাতে এবং বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা দূর করতে রবিবার বিকেলে খাবার (সিঙ্গারা ও কোমল পানীয়) নিয়ে উপশহরের বি-ব্লকে সুবেলের মেসে যান মুর্শেদ। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর নজরুল, সুবেল ও বাহার ফের তাঁর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলে। একপর্যায়ে তিন বন্ধু মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুর্শেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সিলেট জেলা ছাত্রদলের একজন শীর্ষ নেতা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শনিবারের ঝগড়া মিটে যাওয়ার পর মুর্শেদ অত্যন্ত উদার মন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
মুর্শেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর জখম রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁকে এখন কেবিনে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।