সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওরে এক অসহায় কৃষাণীর পাকা ধান কেটে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) সদস্যরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার সাচনা গ্রামের কৃষাণী শাহিনুর আক্তারের ছয় বিঘা জমির ধান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কেটে দেন তারা।
জানা যায়, উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের সাচনা গ্রামের শ্মশান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শাহিনুর আক্তার ধারদেনা করে ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। কিন্তু শ্রমিক সংকট, আর্থিক অনটন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় সময়মতো ধান ঘরে তোলা নিয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন দলনেতা আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে বিষয়টি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কবার্তা ও কৃষকের দুর্ভোগ বিবেচনায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। রবিবার জেলা কমান্ড্যান্টের উপস্থিতিতে বাহিনীর বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য ধান কাটার এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
উপকারভোগী কৃষাণী শাহিনুর আক্তার আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, ধান পেকে গেলেও শ্রমিক না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। খবর পেয়ে আজ আনসার বাহিনীর ভাইয়েরা এসে আমার ধান কেটে দিয়েছেন। এতে আমি অনেক বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম। আমি তাদের জন্য দোয়া করি।
সুনামগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া জানান, আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ধান কাটা শেষ করা জরুরি, অন্যথায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় এবং সিলেট রেঞ্জের উপ-মহাপরিচালকের অনুপ্রেরণায় আমরা অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ধান কর্তন কার্যক্রমে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা খালেদ আহমদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ভাতাভোগী ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। আনসার-ভিডিপির এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।