বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

তিন বছরে শিশুর পিতৃপরিচয়ের দাবি, ডিএনএতে মিললেও স্বীকৃতি মিলছে না

নবীগঞ্জ উপজেলা-এ তিন বছরের শিশু হালিমা মুর্শেদা তার পিতৃপরিচয়ের দাবিতে আলোচনার কেন্দ্রে। একই সঙ্গে তার মা স্বপ্না বেগম দাবি করছেন স্বামীর স্বীকৃতি ও অধিকার। তবে ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি মুরশেদ আহমদ চৌধুরী মুর্শিদ সন্তানের দায় স্বীকার করছেন না—এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারগাঁও গ্রামে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করা স্বপ্না বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী মুরশেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি স্বপ্নাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ অবস্থায় স্বপ্না একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন এবং সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে আদালতের শরণাপন্ন হন।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হয়, হালিমা মুর্শেদা নামের ওই শিশুর জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মুরশেদ আহমদ চৌধুরী।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগমকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং এর ফলেই তিনি গর্ভবতী হন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

পিবিআই তদন্তে সাক্ষ্য, চিকিৎসা তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র পাল জানান, দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি সাজানো মামলা।

ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগম বলেন, “আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ভোগ করেছেন। এখন সন্তানসহ আমাকে ত্যাগ করেছেন। আমি আমার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও ন্যায্য অধিকার চাই।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এই সম্পর্কিত আরো