জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে শিক্ষাক্ষেত্রে উজ্জ্বল সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর আব্দুল মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে।
প্রিয়ন্তীর গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে। তার বাবা স্বর্গীয় গোপাল কৃষ্ণ দাস তালুকদার দীর্ঘদিন সিলেট জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা সোমা রানী দাস তালুকদার। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে প্রিয়ন্তী তৃতীয়।
প্রায় তিন বছর আগে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারে নেমে আসে অনিশ্চয়তা। তবে তার পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য ফুফু তাকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর আব্দুল মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানে লালন-পালন ও লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন। পরিবারের এই কঠিন সময়ে ফুফুর ত্যাগ, স্নেহ ও অনুপ্রেরণাই প্রিয়ন্তীর সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
শুধু ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিই নয়, ২০২৫ সালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের মেধা তালিকায়ও পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল প্রিয়ন্তী। বর্তমানে সে জয়কলস উজানিগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।
প্রিয়ন্তীর স্বপ্ন, ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হয়ে বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করা। তার এ সাফল্যের খবরে আবেগাপ্লুত হন কাকা গৌরাঙ্গ মোহন তালুকদার। তিনি প্রিয়ন্তীর জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করে বলেন, ভবিষ্যতেও যেন সে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে পরিবার ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।
প্রিয়ন্তীর এই অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্যই নয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়রা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।