মাদক, চোরাচালান, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, অনলাইন জুয়া ও মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমানোর লক্ষ্যে সিলেটের জৈন্তাপুরে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টায় উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জৈন্তাপুর মডেল থানার উদ্যোগে ২ নম্বর বিটের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সীমান্ত এলাকার খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, চা-বাগানের নারী-পুরুষ শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সুনন্দা রায় বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মাদক, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, মানবপাচার ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, জৈন্তাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ একটি জনপদ। তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু অন্ধকার দিকও রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে জৈন্তাপুর অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে ওঠে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ দমনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জৈন্তাপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ উছমান গনি, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান হাজি আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ, মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হাসিম সুন্দই এবং বর্তমান ইউপি সদস্য রাজু সিং।
স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন খাসিয়া কমিউনিটির নেত্রী আইরিন খাসিয়া। এ সময় কমিউনিটি নেতা টেম লানং, কা মিন খাসিয়া ও ডিবেনসনসহ খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পান-সুপারিসহ নিজস্ব কৃষিপণ্য নির্বিঘ্নে বাজারজাতকরণে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইমাম উদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির খান, সাবেক অর্থ সম্পাদক মীর শোয়েব আহমেদ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শাহেদ আহমেদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা পরিচালনা করেন জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উৎসব কর্মকার। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জিয়াউর রহমান।
বক্তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশনায় আগামী ১ আগস্টের আগে সীমান্ত এলাকায় অপরাধপ্রবণতা কমাতে ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী দুই সপ্তাহ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিট পুলিশিং ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আরও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হবে।