সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল

সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রায় পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।  সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও  দোকানপাটসহ কয়লা ডিপো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর সুরমা এলাকার বড়বাজার-মঙ্গলকাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঢলের পানি প্রবেশ করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলকাটা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করায় অনেক দোকানের মালামাল নষ্ট হয়েছে। এদিকে, দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়াও তাহিরপুরের লাউড়েরগড় থেকে বাগলিছড়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন স্থান দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করছে। সীমান্তঘেঁষা বাঁশতলা, চারাগাঁও, মাঝহাটি, জঙ্গলবাড়ি, সংসারপাড়, কলাগাঁও, বাজারহাটি ও লালঘাটসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-শক্তিয়ারখলা অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

যাদুকাটা, মাহারাম, রক্তি ও পাটলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তাহিরপুর উপজেলার ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে নদী থেকে বালি ও পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একইভাবে কয়লা ডিপো প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কাজ বন্ধ রয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল, বাদাঘাট ও বালিজুড়ি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তাহিরপুর  উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক সাংবাদিকদের জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজনের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী তিনদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।

এই সম্পর্কিত আরো