জকিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ ও সমাজকর্মী কয়েছ আহমদকে ষড়যন্ত্রমূলক ডাকাতি মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জকিগঞ্জ। এই অন্যায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৭ মে (রবিবার) বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় শরীফগঞ্জ বাজারে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে জকিগঞ্জের হাসিতলা এলাকার এক টমটম চালকের ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। চুরির পর ব্যাটারিটি রমজান নামের এক চিহ্নিত ডাকাতের বাড়িতে পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং কয়েছ আহমদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বিচার সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েছ আহমদ একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে ডাকাত রমজানের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।
পরবর্তীতে ওই রমজান অন্য একটি ডাকাতি মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলে, আগের সালিশি বিচারের ক্ষোভ থেকে কয়েছ আহমদকে ফাঁসানোর জন্য আদালত ও পুলিশের কাছে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আর এই সাজানো ও প্রতিহিংসামূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ কয়েছ আহমদকে গ্রেফতার করে। একজন সুপরিচিত, প্রতিবাদী ও ন্যায়পরায়ণ মানুষকে এভাবে চোরের প্রতিহিংসার জেরে গ্রেফতার করায় জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কয়েছ আহমদ একজন সজ্জন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ব্যক্তিত্ব। একজন চিহ্নিত ডাকাতের প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে কয়েছ আহমদের নাম প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।" একই সাথে পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভালো ও নির্দোষ মানুষ এভাবে আইনি হয়রানির শিকার না হন।
উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ও বারঠাকুরী ইউনিয়নের সাবেক দুই বারের মেম্বার আজিজ আহমদ, ইউনিয়নের বর্তমান ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফয়সাল আহমদ, ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার, হাসিতলা গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী বাছিত হাজী, ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল খালিক (কালু মেম্বার), শরীফগঞ্জ বাজারের সভাপতি ফখরুল ইসলাম, সিহাব আহমদ, বাঘপাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি হান্নান আহমদ, মিনাপাড়ার আব্দুল আলিম, হাতিদরের দেলোয়ার হোসেনসহ এলাকার শত শত গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনতা।
মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়, দ্রুত কয়েছ আহমদের মুক্তি না মিললে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।