মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওর তীরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উপজেলার আন ফানাই নদীর চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত দুই কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার (১৭ মে) সকাল থেকে এই খনন কাজ শুরু হয়। এর আগে গত ১৪ মে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু। এ সময় কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই খনন কাজ সম্পন্ন হলে হাকালুকি হাওর তীরের ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের কৃষক, মৎস্যজীবীসহ কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ভূকশিমইল ইউনিয়নের জাবদা, কালেশার, মুক্তাজিপুর, শশারকান্দি, বাদে ভূকশিমইল; বরমচাল ইউনিয়নের মহলাল, মাধবপুর, আলীনগর, রাউৎগাঁও এবং ভাটেরা ইউনিয়নের শাহমীর, হরিপুর, খামাউড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।
এদিকে কাজ শুরু হওয়ার দুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অন্য এলাকার একটি ভিন্ন ছবি যুক্ত করে এই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি মহল অপপ্রচার চালায়, যা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা আন ফানাই নদীর চকিরমোড়ায় গিয়ে দেখা যায়, হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ফানাই নদীর পাশে ভরাট হওয়া অব্যবহৃত খালের খনন কাজ পুরোদমে চলছে। এ সময় স্থানীয় ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, পিআইও অফিসের কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে কাজটি তদারকি করছেন।
সেখানে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আহমদ, আতিকুর রহমান শান্তি এবং কৃষক আকমল আলী ও লোকমান আহমদ বলেন, "এই খাল খনন আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রতিবছর খরা মৌসুমে বোরো আবাদের সময় পানির অভাবে ধানের ফলন ভালো হতো না। এই কাজ শুরু হওয়ায় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং মাছের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কাজ শুরুর আগেই একটি মহল ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে এই উন্নয়ন কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং কাজ যাতে সঠিকভাবে শেষ হয়, সেজন্য এলাকাবাসী সোচ্চার আছি।"
কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজু চন্দ্র পাল জানান, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বাস্তবায়নে এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার খননের জন্য দুই কোটি ছয় লাখ তিন হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সময়মতো কাজ শুরু করা না গেলেও আজ থেকে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সঠিকভাবে কাজ বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, "এই খালটি খনন হলে হাওর তীরের প্রতিটি গ্রামের ছোট খাল ও বিলের জমাটবদ্ধ পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং বোরো মৌসুমে কৃষকরা পর্যাপ্ত পানির সুবিধা পাবেন। সরকারের এই গণমুখী উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে যারা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে, তাদের চক্রান্ত সফল হবে না।"