বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আলোচনা সভা করেছে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া শাখা। সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
একই সভায় অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়ন ও কনস্যুলার সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বা লাইব্রেরিতে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অভিযাত্রী: জিয়াউর রহমান থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। প্রধান বক্তা ছিলেন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়া শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাহ জে. মিয়া। সংগঠনের সভাপতি এ এইচ এম তাওহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলী। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ কে এম মনজুরুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময়ে বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। জনগণের সমর্থন ও আস্থার মর্যাদা রক্ষায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান জানান পিনাক।
সভায় অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট নবায়ন ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সিডনি কনস্যুলেট অফিসে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়ার কারণে প্রবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
সভাপতির বক্তব্যে এ এইচ এম তাওহীদুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্ট নবায়নসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা পেতে প্রবাসীদের অযথা বিলম্ব ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়ার কারণে সাধারণ প্রবাসীদের ভোগান্তি বাড়ছে। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধান অতিথির সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার উপদেষ্টা মোহাম্মদ আরিফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সহসভাপতি মো. আরিফুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেন ভূঁইয়া এবং শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক কায়সার আহমেদ।
এ সময় বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে নৈশভোজে অংশ নেন অতিথি ও নেতা-কর্মীরা।