সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসামতী-ছনবাড়ী-ভোলাগঞ্জ সড়ক দিয়ে বৈধভাবে ভারতীয় চুনাপাথর পরিবহন ও ব্যবসা পুনরায় চালুর দাবিতে সভা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির প্রতিবন্ধকতা দূর করে পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাউসার আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি মাসুম আহমদ লস্কর এবং ইসামতী-কোম্পানীগঞ্জ চুনাপাথর সাপ্লায়ার্স সমিতির সভাপতি ইলিয়াস আলী।
উপজেলা আঞ্চলিক শাখা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ জুলহাস আলম বাদল, সদস্য কামাল আহমদ, এলসি ব্যবসায়ী রুস্তম আলী, আবুল মিয়া, ওলিদ আহমদ, দুলাল মিয়া, ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার কোষাধ্যক্ষ আলমগীর এবং এলসি ব্যবসায়ী সুরুজ আলী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রায় এক দশক ধরে ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা এ সড়ক ব্যবহার করে বৈধভাবে চুনাপাথর পরিবহন করে আসছেন। মিনি ট্রাকের মাধ্যমে চুনাপাথর পরিবহনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের জীবিকা জড়িত। কিন্তু চলতি শুকনো মৌসুমের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানা অজুহাতে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে।
তাঁরা বলেন, বৈধ ব্যবসা ও পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির প্রতিবন্ধকতা দূর করে চুনাপাথর পরিবহন চালুর জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। অন্যথায় কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় জালিয়ারপাড়, ছনবাড়ী, শাহ আরেফিন ও নোয়াকোট এলাকার বাসিন্দাদের একটি পক্ষ উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখিত সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে লোহার প্রতিবন্ধক (বার) অপসারণ না করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সড়কটির আধাপাকা অংশে বিভিন্ন স্থানে গর্ত রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ধুলাবালি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, সড়কটি ব্যবহার করে চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ থাকার পেছনে শুধু জনদুর্ভোগের বিষয় নয়, ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট জটিলতাও থাকতে পারে। ফলে সড়কটি দিয়ে পরিবহন চালু নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।