বিশ্ব ঐতিহ্য টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরাম।
‘টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিচ্ছন্ন রাখি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করি’ স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাওরের পরিবেশ সুরক্ষা, পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, যত্রতত্র প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি দুলাল কান্তি পালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী। সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক রাজু আহমদ রমজান সভা সঞ্চালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী এবং দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জের খবর-এর স্টাফ রিপোর্টার এম. এ. রাজ্জাক।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। বিস্তীর্ণ জলরাশি, হিজল-করচের বন, দেশি-বিদেশি পাখি এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এ হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু পর্যটকদের অসচেতনতা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও পরিবেশদূষণ হাওরের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
তাঁরা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হাওরপারের বাসিন্দা, পর্যটক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগে ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে আলোচনা সভা শেষে হাওরাঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মো. উস্তার আলী আখঞ্জিকে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।