সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

৫ বিঘা থেকে ৩০ বিঘা, কৃষিতে সফল মনিরুজ্জামান

মাত্র ৫ বিঘা জমি দিয়ে কৃষি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতনগর কালীবাড়ী গ্রামের মনিরুজ্জামান। আট বছরের ব্যবধানে সেই উদ্যোগ এখন বিস্তৃত হয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। মাছ চাষ, গরুর খামার, কবুতর পালন, জৈব সার ও বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনসহ বহুমুখী কৃষি প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। আগামী দিনে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন এই উদ্যোক্তা।

মনিরুজ্জামান রহমতনগর কালীবাড়ী গ্রামের মরহুম আব্দুস সালাম মেম্বারের ছেলে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, পরিশ্রম, বুদ্ধিমত্তা ও কাজের প্রতি আগ্রহের কারণে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

একসময় বালু-পাথরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মনিরুজ্জামান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বালু-পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিকল্প কর্মসংস্থানের সন্ধানে কৃষির দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। এরপর কৃষি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন নিজের উদ্যোগ।

সরেজমিনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের আহমদাবাদ বালুচর ও রাধানগর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিশাল পরিসরে গড়ে উঠেছে নাবিল এগ্রো ফার্ম। বিভিন্ন ফসল ও কৃষি প্রকল্পের পাশাপাশি খামারভিত্তিক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলছে সেখানে।

উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান জানান, ২০১৮ সালের দিকে মাত্র ৫ বিঘা জমি কিনে তার কৃষি উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে লাউ, ঝিঙা, ধনিয়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। প্রায় দুই বছর পর ধান, গম, ভুট্টা ও সরিষা চাষের প্রকল্প যুক্ত করেন।

এ সময় উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ তাকে আরও উৎসাহিত করে। তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে মনিরুজ্জামান বলেন, পাওয়ার টিলার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও রাইস প্ল্যান্টারের মতো কৃষিযন্ত্র পাওয়ায় তার কৃষি উদ্যোগ আরও গতিশীল হয়।

বর্তমানে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে কৃষির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। নতুন করে মাছ চাষ, গরুর খামার, কবুতর পালন, ভার্মি কম্পোস্ট সার ও বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন প্রকল্প যুক্ত করছেন। এসব কাজে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সব মিলিয়ে আগামী দিনে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

মনিরুজ্জামান বলেন, “যান্ত্রিকীকরণের সহায়তায় কৃষিতে অনেক বেশি সফলতা পাওয়া সম্ভব। ধৈর্য, সাহস ও সরকারি পরামর্শ নিয়ে যে কেউ কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়ে সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন।”

সিলেটের যুবসমাজকে কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একজন মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ।

কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকদের জন্য সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, খাদ্যশস্য উৎপাদন অনেকটা যুদ্ধের মতো। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার স্বীকৃতিও পেয়েছেন মনিরুজ্জামান। উপজেলা প্রশাসন, কোম্পানীগঞ্জের পক্ষ থেকে তাকে সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কৃত করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান বলেন, “কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামানের নাবিল এগ্রো ফার্ম আমরা মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করি। একজন কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি যে ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা চান, আমাদের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইতোমধ্যে জৈব সার ও মাশরুম উৎপাদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি মনিরুজ্জামানকে কোম্পানীগঞ্জের একজন অগ্রগামী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

▐ এই সম্পর্কিত আরো