মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের মিনারাই গ্রামে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন এবং বসতঘরের সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাসকারী রুপজান বেগমের পরিবারের নয় সদস্য চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পুকুরে মাছ নিধনের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেছে।
জানা যায়, মিনারাই গ্রামের আব্দুল গণির স্ত্রী রুপজান বেগমের দাবি, বৈধ কাগজপত্র ও ভোগদখলের ভিত্তিতে তিনি জমিতে বসবাস করছেন। তবে প্রতিবেশী আব্দুল মন্নাফ, আব্দুল বারী, আবরুজ মিয়া ও আল-আমীন ওই জমিতে শরিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
এদিকে রুপজান বেগমের বসতঘরটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
রুপজান বেগম বলেন, প্রকৃত অংশীদারের কাছ থেকে ২৪ শতক ৬০ শতাংশ জমি কিনে নামজারি ও খারিজ করে বৈধভাবে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর দাবি, জমির ওপর নির্মিত টিনশেড ঘরটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ায় শিশুসহ নয় সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
রুপজান বেগমের ছেলে আব্দুল নসাদ অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বসতবাড়ির পাশের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চাষ করা বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করেন। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে গত ২২ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একদিকে ঘরের সংস্কারকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মাধ্যমে আমাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মন্নাফ ও আব্দুল বারী বলেন, কে বা কারা পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করেছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের দাবি, বাড়িতে শরিকদের জমি রয়েছে। শরিকদের জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মাছ নিধনের মামলায় অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক জটিলতা চলছে। কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও উভয়পক্ষের অসহযোগিতার কারণে সমস্যার সমাধান হয়নি। তবে বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই রনি তালুকদার বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের মামলার আসামিরা জেলহাজত থেকে জামিনে রয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। বসতঘর সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়টি রুপজান বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।