সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরে আলম শামীম, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমী। উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফাইজুর রহমান ফয়েজ, আরএমও ডা. আব্দুল বাতেন, জামালগঞ্জ সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক অঞ্জন পুরকায়স্থ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবুল কালাম, নার্স সুপারভাইজার নির্লিপ্তা হালদার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোশাররফ হোসেন, শরীফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় পরিচালক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ওষুধের স্টোররুম ও রোগীদের খাবারের মান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের রান্নাঘরে মুরগির মাংসের ওজন ও গুণগতমান পরীক্ষা করেন।
হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত আসবাবপত্র নিলামে বিক্রির জন্য সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি।
৩১ শয্যাবিশিষ্ট জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনের সময় বেড ও মেঝেতে মিলিয়ে ৭৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৩৩ জন হাম রোগে আক্রান্ত বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানালে বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিভাগীয় পরিচালক।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। পাশাপাশি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের পরও কার্যক্রম চালু না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ শিগগিরই ১৮০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তখন জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাওরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চিকিৎসকরা কাজ করতে আগ্রহী হন না উল্লেখ করে তিনি এ অঞ্চল থেকেই চিকিৎসক তৈরির জন্য সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় পরিচালক স্পিডবোটযোগে ধর্মপাশা উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন।