জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা তৈরি ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬৩ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা এই মামলায় এজাহারনামীয় ৬৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, সাবেক সহসভাপতি বর্তমানের সদস্য অ্যাড. মো. খায়রুল কবির রুমেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপনসহ ৬৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বৃহস্পতিবারই ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা সবুজ মিয়ার ছেলে মাহমুদুল হাসান ফারদিন (২০) ও পশ্চিম তেঘরিয়ার জুবায়ের আহমদের ছেলে সালেহ আহমদ ফাইয়াজ (২৭)। এই দুজনকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদর আদালতের বিচারক তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপাড়ার সার্কিট হাউজের সামনে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে আসামিরা একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করে। পরবর্তিতে পুলিশ উপস্থিত হলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ (২৮), জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মেহেদী হাসান সাকিব (২৫), সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন (৩৩), সহ-সভাপতি শামসুল আবেদীন রাজন (২৭), অরিন্দম মৈত্র অমিয় (৩০), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ (৩০), সহ-সভাপতি আবু তালহা মিতুল (২৮), সহ-সভাপতি আতাউল হক সানি (৩০), সাবেক সহ-সভাপতি পাবেল আহমেদ (৩৮), সহ-সভাপতি সুয়েব আহমদ চৌধুরী (৫০), ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার (৩৫), ফেনারবাক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাফিউদ্দুয়া (৩৫), সহ-সম্পাদক পরাণ চৌধুরী (৩১), জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানভীর (৩২), টিংকু চৌধুরী (৩৬), ইয়াকুব (৩২), জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে (৩২), বরুন (৩৮), সুনামগঞ্জ পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বখতিয়ারুল হক মাহি (২৩), ইয়াকুব শরীফ, রিফাত (৪০), গোলাম কাদের সুজন (৪১), অলিউর রহমান (২৮), জিয়াবুল (৩৫), আল-আমিন (৩৫), জেলা শাখার বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আছকির আলী (৪০), সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত জামিল (২৮), জেলা শাখার আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম আহমেদ (৪০), জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ (৪২), আল আমিন (৩২), হেলাল মিঞা (৩৫), সুনামগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব (২৮), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাহাত আহমদ (২৭), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রমজান (৪৮), জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুব্রত তালুকদার সেতু (৪৫), সুনামগঞ্জ সদর মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি রিগান আহমেদ (৩৭), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন চৌধুরী (৪৫), সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি শাহনুর (৪৮), জাহাঙ্গীরনগর ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদ (৩৮), কাঠইর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান (৪৫), এহসান উল্লাহ প্রকাশ মো. উজ্জ্বল আহমদ (৩৯), তুষার (২২), অমল চৌধুরী হাবলু (৫৫), সাংগঠনিক সম্পাদক নিহান (২৫), সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য আক্তারুজ্জামান (৩৫), ফুয়াদ আহমেদ (৩৮), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ উদ্দিন (৩৫), সামন্ত চন্দ্র দাস (৪০), সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক (৪৯), ফারুক আহমেদ সুজন (২৮), আনন্দ (২১), ইশতিয়াকুর রহমান দিনার (১৪), তানজিন (২২), হাবিব আহমদ (২৩), আবু বক্কর সিদ্দিক (২৩), রাহাত (২৫), মো. আক্তার হোসেন (২৮), জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট (৭০), সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন (৫৫), জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল (৫৫), সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মো: খায়রুল কবির রুমেন (৫৯)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন সেখ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং মিছিলে থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করলে, আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।