জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব কেবল পরিবেশ অধিদপ্তর বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নয়; কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো, শিল্প, নগরায়ণ ও পর্যটনসহ প্রতিটি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটে ‘কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (KMGBF)’-এর আলোকে হালনাগাদকৃত ‘জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (NBSAP) ২০২৬-২০৩০’ বিষয়ে আয়োজিত অংশীজন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সিলেট হাওর, পাহাড়, টিলা ও চা-বাগানের এক অনন্য আধার। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময় পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করেই। শুধু সভা-সেমিনারের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়; ব্যক্তিগত আচরণে পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এর মূল চাবিকাঠি।
টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি পর্যটনের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় অংশীজনদের মতামত জাতীয় নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংরক্ষিত এলাকার ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শিল্পবর্জ্য পরিশোধন এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরীসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, NBSAP-এর নতুন কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে।