সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেছেন, পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোগগুলো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখায়। যারা নিঃস্বার্থভাবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করেন, তারাই সমাজের প্রকৃত নায়ক। তাদের এই আদর্শ অনুসরণ করা আমাদের সবার নৈতিক কর্তব্য।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিনের পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা স্মারক প্রদান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, মো. নাসির উদ্দিন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদ বা ব্যক্তিগত লাভের আশায় নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সাধারণ মানুষের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি উদ্যোগেই পুরো সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিচ্ছন্নতা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সরাসরি জননিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। ড্রেন ও পানির প্রবাহ সচল রাখার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিয়ানীবাজারের মোল্লাপুর থেকে শুরু হওয়া এই ব্যক্তিগত সচেতনতা যেন পুরো সিলেট বিভাগে ছড়িয়ে পড়ে, সেই আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক বনানী দাস। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর ছিদ্দিকী, সিনিয়র টেকনিশিয়ান আল মামুন, সাংবাদিক গুলজার আহমদ হেলাল এবং মোল্লাপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব মো. নাসির উদ্দিনের নিঃস্বার্থ সেবার প্রশংসা করে বক্তারা বলেন, তার এই সম্মাননা অন্য সাধারণ মানুষকেও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। অনুষ্ঠান শেষে বিভাগীয় কমিশনার নাসির উদ্দিনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।