সিলেটের জকিগঞ্জে এক সৌদি প্রবাসীর জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আইনি সহায়তা চেয়ে করা আবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ভুক্তভোগী প্রবাসীর অভিযোগ, জমির পুরো মূল্য পরিশোধ করার পরও তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হচ্ছে না, বরং উল্টো অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) খন্দকার সেহরাজুস সালেহীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৮ জুলাই ২০২৬ প্রবাসী আহমদ আল ইয়াহইয়ার আইনি সহায়তার আবেদনটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অগ্রায়ন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আহমদ আল ইয়াহইয়া জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার বাবা মরহুম আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জীবিত থাকাকালে নিজের আপন চাচা আব্দুল হক, ফুফু হুররে জান্নাত এবং ফুফা ফয়সল আহমদের কাছ থেকে বসতবাড়ির পাশের প্রায় ৬১ শতক জমি ৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।
আহমদ আল ইয়াহইয়ার দাবি, আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে ব্যাংক, বিকাশ এবং নগদে জমির পুরো টাকা পরিশোধ করা হয় এবং জমির দখলও তাদের পক্ষ বুঝে নেয়। এরপর থেকে তাদের নিযুক্ত বর্গাচাষী জমিটি চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা শুরু করেন।
প্রবাসীর অভিযোগ, ২০২৫ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি জমি রেজিস্ট্রির বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করলে অভিযুক্তরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জমির জন্য অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ওই টাকা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
প্রবাসী আহমদ আল ইয়াহইয়া আরও জানান, বিদেশ থেকে তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করলেও অভিযুক্তরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। এমনকি তিনি দেশে ফিরলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, খুন বা গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার মা ও অবিবাহিত বোনসহ স্বজনদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিশ-বিচারের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তিনি অবশেষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দার মাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপ ও আইনি সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিষয়টি তিনি আইনিভাবেই মোকাবেলা করবেন।
উল্লেখ্য, কনস্যুলেটের চিঠির অনুলিপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।