সুনামগঞ্জের শাল্লায় শাহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় লক্ষ টাকা মূল্যের ছোট বড় অন্তত ১৩টি গাছ রাতের আধারে বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল। লিজের মাধ্যমে বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করেননি তিনি। সিন্ডিকেট করে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক কমিটির কাউকে না জানিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ মিয়ার নিকট গাছগুলো বিক্রি করে দেন। এতো টাকা মূল্যের গাছগুলো কেনই-বা কি স্বার্থে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করলেন এমন প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয়রা জানান নামমাত্র টাকা দিয়ে গাছগুলো বিক্রির আড়ালে প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের অসৎ কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। একটি সূত্র জানায়, গাছগুলো অধিক মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। ৪৫ হাজার টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা দিয়ে বাকি টাকা প্রধান শিক্ষক পকেটস্থ করার চিন্তা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল আনুমানিক রাত আটটার সময় মন্নানপুরের ফয়সাল মিয়ার ট্রাক দিয়ে স্কুল থেকে মফিজ মিয়ার বাড়িতে গাছগুলো নেওয়া হয়েছে বলে জানান ফয়সাল মিয়া নিজেই। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে না অবগত না করেই তিনি এমনটা করায় অনেক প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইতিপূর্বে লিজ ছাড়া স্কুলের ভবন বিক্রি, ভাড়া ব্যতিত পরিবার নিয়ে স্কুল ভবনে বসবাস করা, স্কুল ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে জড়িত থাকা সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উটেছে। আরিফ মোহাম্মদ দুলালের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গত বছর বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা।
যার কারনে বেশ কয়েকবার পত্রিকায় শিরোনামও হয়েছেন এই শিক্ষক। তবে ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে যেসকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উটেছে সেগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। শাহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানান, স্কুলে একটি ঘর তৈরি করার জন্য ওই গাছগুলো কাঠ বানিয়ে ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে তিনি বিধিমালার বাহিরে গিয়ে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। সূত্র জানান, আর্থিক যেকোনো বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অবগত করার কথা। কিন্তু কমিটিকে অবগত না করেই তিনি ইচ্ছেমতো স্কুল চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও বার্ষিক ফলাফল সহ অনেক কিছুতেই স্কুলটি পিছিয়ে রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ঘুঙ্গিয়ার গাঁও বাজারের একজন কাঠ ব্যবসায়ী জানান, গাছগুলোর বাজারমূল্য রয়েছে অন্তত দেড় লক্ষ টাকা। কিন্তু লিজ ছাড়াই রাতের আধারে গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক সমালোচনা হচ্ছে।
গাছ ক্রেতা মফিজ মিয়ার সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি কোন গাছ কিনিনি। না কিনলে স্কুলের গাছ আপনার বাসার সামনে কেন এমন প্রশ্ন করার পরই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি। তবে গাছগুলো পরিবহনকারী ট্রাক চালক ফয়সাল মিয়া জানান, ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে দুলাল স্যারের কাছ থেকে গাছগুলো কিনেছেন মফিজ মিয়া। কেনার পর আমার গাড়ি দিয়েই মফিজ মিয়ার বাসার সামনে গাছগুলো নেওয়া হয়েছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এব্যাপারে শাহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
শাহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন গাছগুলো কাঠ তৈরি করার জন্য মিলে পাঠানো হবে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক যদি গাছগুলো বিক্রি করে থাকে তাহলে এবিষয়ে আমাকে তিনি কোনকিছু জানায় নি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জুলফিকার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে গাছ বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি রয়েছে অবশ্যই ওই কমিটির মাধ্যমে গাছ বিক্রি করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, লিজ ছাড়া গাছ বিক্রি করার নিয়ম নেই। কমিটিতে উত্থাপন করেই বিক্রি করতে হবে। তিনি বলেন বিষয়টি আমি দেখছি।