সিলেটের সীমান্তবর্তী চার উপজেলা—জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ—দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল দেশে প্রবেশ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট ব্যবহার করে এসব মোটরসাইকেল দেশের অভ্যন্তরে পৌঁছে যাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সচেতন মহলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রী, গোয়বাড়ী, কাঠালবাড়ী, তিপরাখলা, ডিবির হাওড়, কেন্দ্রী, আলুবাগান ও মোকাম এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার আমসপ্ন, নলজুরী ও প্রতাপপুর সীমান্ত দিয়ে প্রায় প্রতিদিন রাতের আঁধারে এসব মোটরসাইকেল আনা হয়। বিশেষ করে জৈন্তাপুরের মোকাম ও গোয়াইনঘাটের আমসপ্ন সীমান্তকে অবৈধ মোটরসাইকেল প্রবেশের অন্যতম রুট হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।
ভারতীয় এসব মোটরসাইকেলের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সহজেই ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের হাতেও এসব মোটরসাইকেল চলে যাচ্ছে। ফলে বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুলাই জাফলং চা-বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
এদিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সড়কে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি, সীমান্তে নজরদারি জোরদার, অবৈধ মোটরসাইকেল জব্দে নিয়মিত অভিযান এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।