দীর্ঘ ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন কুলাউড়ার আমতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. সফিকুর রহমান। ১৯৮৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো শুভেচ্ছা ও সম্মান জানাতে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ ছিদ্দিক আলী। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক শাহজাহান আলম এবং আমতৈল বিপ্লবী যুব সংঘের সভাপতি রাহাদ রহমান তায়েফ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদ হোসাইন, প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সুমন, সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোক্তাদির হোসেন, শিক্ষক জুসিয়ারা খানম, বদরুল ইসলাম, দেবী প্রসাদ ভট্টাচার্য, আব্দুল হান্নান ও সুলেমান হোসেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম খছরু, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. রওফুর রাজা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক, কাতারস্থ কুলাউড়া ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রুবেজ আহমেদ রুবেল, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল মজিদ আবদাল, কাতার কমিউনিটির নেতা সিদ্দিকুর রহমান, আমতৈল বিপ্লবী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন লিটন, শিক্ষক সাহেদুর রহমান কিরণ এবং ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ।
বক্তারা বলেন, মো. সফিকুর রহমান শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকতুল্য একজন আদর্শ মানুষ। সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে মো. সফিকুর রহমান বলেন, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ৫৯ বছর বয়স পূর্ণ করে শিক্ষকতা জীবন শেষ করছি। বিদায়ের এই মুহূর্তে তোমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান আমাকে আজীবনের জন্য ঋণী করে রাখল। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন তোমাদের খোঁজ রাখব। তোমরা ভালো মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক সফিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা ফুল দিয়ে সজ্জিত গাড়ি ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্তে।
উল্লেখ্য, মো. সফিকুর রহমান কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা।