জুলাইয়ের বিয়ের স্বপ্ন, ভাইয়ের ভিসার অপেক্ষা আর নতুন জীবনের হাজারো পরিকল্পনা—সবকিছু থামিয়ে দিয়ে অবশেষে শেষ বিদায় জানানো হলো নওশিন নাওয়ার উর্বিকে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে কান্নাভেজা পরিবেশে বিদায় নিলেন এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এখন তিনি ফিরছেন নরসিংদীর সেই চেনা মাটিতে—চিরদিনের জন্য।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের কিসবরো মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় মাত্র ২৪ বছর বয়সে ঝরে যাওয়া উর্বির জানাজা। এতে সহপাঠী, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বিভিন্ন দেশের মুসলিম ভাই-বোনেরা অংশ নেন। প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের এক তরুণীর জানাজায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, বুকভরা কষ্ট।
আগামী শুক্রবার রাত ১১টায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উর্বির মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবে। শনিবার নরসিংদীর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জন্মভূমির মাটিতেই হবে তার শেষ ঠিকানা।
উর্বির মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাগদত্তা সিয়াম আহমেদ সরকার। ঢাকার নয়াপল্টনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির সরকারের ছেলে সিয়াম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে। আগামী জুলাইয়ে দেশে গিয়ে বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু উর্বি চলে যাওয়ায় সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।”
তিনি আরও জানান, উর্বি তাঁর ছোট ভাইয়ের স্টুডেন্ট ভিসার জন্যও আবেদন করেছিলেন। পরিবারকে নিয়ে ছিল অনেক পরিকল্পনা। কিন্তু এখন সবই স্মৃতি।
উর্বির মরদেহ দেশে পাঠাতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় প্রায় ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি অর্থ বহন করবে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প সেন্টার।
সংগঠনটির অ্যাডমিন সিএইচ মাহবুবুর রহমান প্রান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে আসছেন, তাঁদের সবাইকে অনুরোধ করবো—ইনস্যুরেন্সে যেন হাসপাতাল কভারেজ ও মৃতদেহ প্রত্যাবাসনের সুবিধা অবশ্যই যুক্ত থাকে। যেকোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় এতে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি ও বিদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় উর্বিকে দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। সবাই পাশে থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা আরও বিস্তৃত করা যাবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে উর্বিকে মেলবোর্নের রয়্যাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি কোমায় চলে যান। পরে চিকিৎসকরা তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করা হয়।
মেলবোর্নে সোশ্যাল সায়েন্সে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত নওশিন নাওয়ার উর্বির বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর।