আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ, হামলার শিকার হওয়া—রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই শিক্ষার্থী।
বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইয়াহইয়া এর আগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে ছাত্রদলের নেতারা জানান।
হামলার শিকার, এরপর কারাবরণ
রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আফসানকে। ২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। ওই ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ১৭টি সেলাই দিতে হয়। একই ঘটনায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এরপর ২০২৩ সালে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন এই ছাত্রদল নেতা। পরে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করতে হয় তাকে।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। বরং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
হরতাল-অবরোধে সমন্বয়ের দায়িত্ব
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির ঘোষিত হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন আফসান। ওই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম এলাকায় ছাত্রদলের কর্মসূচি সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তার নেতৃত্ব ও সমন্বয়ে মহানগর উত্তর ও পশ্চিম ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাজপথের কর্মসূচিগুলোতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও মাঠে
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিলেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন তিনি।
ওই সময় রাজপথের কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছাত্রদলের সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আলোচনায় আসে।
ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির বার্তা
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত হন আফসান। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে মতবিনিময় ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির বার্তা দেওয়ার এসব উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে।
সাংগঠনিক নেতৃত্বে নতুন পরিচিতি
আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া—এমনটাই মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাঠে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
তবে রাজনীতির মাঠে একটি পদ বা পরিচয়ের চেয়ে ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডই একজন নেতার ভবিষ্যৎ পথচলা নির্ধারণ করে। সেই বিবেচনায় আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়ার সামনে এখন আরও বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টরা।