বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আইন-আদালত

নির্দিষ্ট মামলা ছাড়া শ্যোন অ্যারেস্ট নয়—হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না— হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরদিকে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। ওই আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুলও জারি করা হয়।

হাইকোর্ট রুলে জানতে চান, আবেদনকারীকে বারবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো এবং হয়রানি, অপমান ও নিপীড়নের উদ্দেশ্যে গুরুতর প্রকৃতির মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ কেন বেআইনি, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাবিহীন ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেফতার বা হয়রানি না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না— তাও জানতে চাওয়া হয়।
.

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ স্থগিত করেন এবং মূল রুল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চার সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন। এর ফলে বিষয়টির আইনগত বৈধতা ও সাংবিধানিক প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করবে।

আইনজীবীদের মতে, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ বা এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এ ধরনের পদক্ষেপের অপব্যবহারের অভিযোগ বহুবার আদালতের নজরে এসেছে।
.

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও চলমান তদন্তের স্বার্থে আইনসম্মত ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার— উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই সম্পর্কিত আরো