আইন ও প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে দিনদুপুরে টিলা কাটা এবং চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি জবরদখলের মহোৎসব চলছে জালালিয়া আবাসিক এলাকা সংলগ্ন তারাপুর চা বাগানে। কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র তিন দিনের মাথায়, রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সেই উচ্ছেদকৃত স্থানে ফের ঘর নির্মাণ করে এক ব্যক্তিকে তুলে দিয়েছে একটি চিহ্নিত দখলবাজ চক্র। এ ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষের কাউকে ওই এলাকায় ঢুকতে দেখলে সরাসরি প্রাণে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বাগান সূত্র জানায়, সংরক্ষিত টিলা কেটে দেবোত্তর জমি প্লট আকারে বিক্রি ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালায় বাগান কর্তৃপক্ষ। সে সময় নির্মাণাধীন একটি অবৈধ ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে দখলদাররা আগেই সটকে পড়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, সেই উচ্ছেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বেপরোয়া তাণ্ডব চালায় স্থানীয় একটি ভূমিখেকো সিন্ডিকেট। ‘মাংসকাণ্ডে’ বহিষ্কৃত ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও তার সহযোগী ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তারের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দেওয়া স্থানে দাঁড়িয়ে থেকে জোরপূর্বক পুনরায় ঘরটি নির্মাণ করে। এরপর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জায়গাটি মোহাম্মদ মইনুল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে ওই রাতেই তাকে ঘরে তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে বসবাসের ‘অনুমতি ও শেল্টার’ নিশ্চিত করে চক্রটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস-মুক্তার সিন্ডিকেট অভিনব কৌশলে বাগানের টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ প্লট বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে তারাপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও চিফ কো-অর্ডিনেটর রিংকু চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার গুঁড়িয়ে দেওয়া জায়গা পুনরায় অস্ত্র উঁচিয়ে দখল এবং আমিসহ বাগান কর্মচারীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গিয়াস ও মুক্তারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল দলিলের মাধ্যমে ওই অবৈধ বসতিতে মিটার বরাদ্দ দেওয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-বিতরণ বিভাগ ৪-কে আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ পাঠানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সেখানে বাগান কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়েছিল, খবর শুনে ওইদিন আমি কেবল সেখানে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে আমি আর ওই এলাকায় যাইনি।’ নিজেকে নির্দোষ ও একজন ‘বাস ড্রাইভার’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ এক কর্মজীবী মানুষ, এসব দখল-বাণিজ্যের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবীব বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের থানার একদল পুলিশ ও তাঁদের আইনজীবীদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন এবং নোটিশ দিয়েছেন। তবে নতুন করে রাতের আঁধারে দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। বাগান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।’