মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) মার্কিন সংবাদ মাধ্যম নিউজনেশনের সাংবাদিক হান্না ব্র্যান্ডটের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা কখনোই এমন কিছু দেখতে চাই না। তারা আমাদের দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রয়োজনে তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করতেন। তবে তারা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতেন না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বীর যোদ্ধাদের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-কে শাস্তি দেওয়া।
সেন্টকম জানিয়েছে, নিহত দুই সেনাসদস্য ছাড়াও আরও একজন মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। এর ফলে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় খামেনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা বারবার ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
বার্তায় তিনি বলেন, মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) চুক্তি ভঙ্গ করে দেখিয়ে দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন। আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি ও আগ্রাসনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ আরও উসকে দিতে চায় এবং আরও বড় ক্ষতি ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তাহলে তাদের জেনে রাখা উচিত ইরানের জনগণ এবং প্রতিরোধ অক্ষ তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।