সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদারের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল পালন করেছেন নৌযান শ্রমিকরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জামালগঞ্জ উত্তর স্টীলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ও সাধারণ নৌযান শ্রমিক ও ক্রাশার মিল শ্রমিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে শ্রমিকরা জামালগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, জামালগঞ্জ উত্তর স্টীলবডি নৌকা শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. কবির আহমদ ও নৌকা মালিক আবুল হোসেনসহ নৌযান শ্রমিকরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জ অংশে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদাররা সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায় করছেন। এতে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি হাজার হাজার শ্রমিকের পেটে আঘাত না করে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিন। ক্রাশার মিলে জরিমানা করায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আপনার কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই কেন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব, আপনি তাদের কাছে ম্যানেজ হয়েছেন?’
তারা আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন, শ্রমিকের পেটে আঘাত করে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না।’
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে কথিত চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
এ সময় লালপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির উদ্দেশে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনাদের চোখের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে বিআইডব্লিউটিএর নামে চাঁদাবাজি হয়। আপনারা চাঁদাবাজি বন্ধ না করে উল্টো নৌশ্রমিকদের হয়রানি করেন। কাগজের অজুহাত দেখিয়ে চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে মামলার ভয়ভীতি দেখান। আজকের পর থেকে আমরা নৌপথে আর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করব না।’
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শ্রমিকরা অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ, সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার ওয়াহেদ আলী বলেন, ‘আমি সরকারি রেট অনুযায়ী টাকা আদায় করছি। অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না। আমার নামে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা।’
আরেক অংশের ইজারাদার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত কোনো টাকা আদায় করি না। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
লালপুর নৌপুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু বলেন, বিআইডব্লিউটিএর টোল-ট্যাক্সের বিষয়টি আমার না। তারপরও ইজারাদারগন যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া বিভিন্ন অপরাধে আমি প্রতিমাসেই একাধিক মামলা দিচ্ছি।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছি। আজকের বিষয়টি এখনো অবগত হইনি।’