বৈদেশিক মিশন ও পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ে ফলাফলভিত্তিক ব্যবস্থার প্রস্তাব বাংলাদেশের বৈদেশিক মিশন, পর্যটন খাত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ফলাফলভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটন পরামর্শক ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং প্রবক্তা ও ইউরোপ: দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইকোট্যুরিজম সোসাইটি সভাপতি ডাল্টন জাহির। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শুধু অনুষ্ঠান আয়োজন, ছবি তোলা বা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এখন সময় এসেছে লক্ষ্যভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য কার্যক্রম চালুর।
তিনি এতে পাঁচটি বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো—বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং ও পর্যটক বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ, কার্যকর ব্যবসায়িক সংযোগ, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দূতাবাসগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, প্রতিটি দূতাবাসের জন্য বার্ষিক পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রচার, নির্দিষ্ট বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা, ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সেরা কর্মদক্ষতার জন্য পুরস্কার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজেট ব্যবস্থাপনাতেও সংস্কারের সুপারিশ করা হয়। ইভেন্টকেন্দ্রিক ব্যয়ের পরিবর্তে ফলাফলভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ এবং প্রতিটি খরচের বিপরীতে বিনিয়োগের ফলাফল মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় বর্তমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি, বাস্তব ফলাফলের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়।
এতে আরও বলা হয়, একটি দূতাবাসের সাফল্য মাপা উচিত কত পর্যটক আকৃষ্ট করা হয়েছে, কত ব্যবসা সৃষ্টি হয়েছে এবং কত কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে—এসব সূচকের ভিত্তিতে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ বিশ্বে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।