বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, খাদ্যসংস্কৃতি ও পর্যটন অবকাঠামো মালয়েশিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে ধরতে কুয়ালালামপুরে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম প্রেজেন্টেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ট্রাভেল ক্যানভাসের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) ও বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কুয়ালালামপুরের হাওয়ার্ড জনসন বাই উইন্ডহাম হোটেলের ফিনিক্স হলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পর্যটক আকর্ষণ এবং দুই দেশের পর্যটন খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিপুত্রা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) সভাপতি ড. ওয়ান মুহাম্মদ আদম ওয়ান নরুদ্দিন, মালয়েশিয়ান চাইনিজ ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিটিএ) সভাপতি প্যাট্রিক ল, মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (এমআইটিটিএ) ডেপুটি প্রেসিডেন্ট বিমলা দেবী সিনাদুরাই এবং বিএমসিসিআইয়ের সার্ভিস সেক্টর ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও ট্রাভেল ক্যানভাসের প্রকাশক মো. জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া (রোমান)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার ও বিশেষ অতিথিরা ট্রাভেল ক্যানভাসের বিশেষ প্রকাশনা ‘Bangladesh – The World’s Largest Delta: An Untold Story’ উন্মোচন করেন। পরে ট্রাভেল ক্যানভাসের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ, অবকাঠামো ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপনায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় পর্যটন গন্তব্য, সুস্বাদু খাবার এবং আতিথেয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও খাদ্যাভ্যাসের সাদৃশ্যকে পর্যটক আকর্ষণের সম্ভাবনাময় দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার একটি ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। এ ছাড়া দুই দেশের ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং পর্যটন প্যাকেজ ও সেবার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের মধ্যে স্মারক বিনিময় করা হয়। পরে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।