শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

বাড়ছে লোডশেডিং, উৎপাদন ঘাটতি ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি

গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা) বিদ্যুতের চাহিদা পৌঁছাচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটে। তবে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে লোডশেডিং।

এ পরিস্থিতিতে শহরাঞ্চলে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও মফস্বল এলাকাগুলোয় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।

দেশে চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ চাহিদা পূরণে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রয়োজন। কিন্তু এসব জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাদের মতে, বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সংকট এবং কিছু কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। যদিও এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহরুল ইসলাম বলেন, ‘লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট (মেশিন) রক্ষণাবেক্ষণে ছিল। এর মধ্যে আদানির একটি ও রামপালের দুটি। বর্তমানে তিনটি ইউনিটই উৎপাদনে এসেছে। তবে এসএস পাওয়ার ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সংকট রয়েছে। এর বাইরে যুদ্ধের কারণে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত জ্বালানির সংস্থান নেই। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও উৎপাদন সংকটে রয়েছে। এসব কারণ মূলত বিদ্যুতের সংকট। তবে পরিস্থিতি আগামী দুই-একদিনের মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।’

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াট। আর সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ১২ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ৪১৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। আর গতকাল সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়েছে।

এ সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। ওইদিন ঘণ্টাপ্রতি বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানে সর্বনিম্ন সাড়ে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করা হয়েছিল।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কয়লাভিত্তিক তিন ইউনিট পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। এর মধ্যে গতকাল বিকাল ৫টায় আদানি পাওয়ার থেকে ১ হাজার ৪৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসএস পাওয়ার প্লান্ট এবং কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লা সংকটে পড়েছে। যদিও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়লাবাহী একটি জাহাজ এরই মধ্যে পৌঁছেছে এবং খুব শিগগিরই বড় পরিসরে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটে রয়েছে। সরকারের কাছে কেন্দ্রগুলোর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। কয়েক দফা সংবাদ সম্মেলন করে বকেয়া পরিশোধের দাবিও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলে আসছেন, অর্থ সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারছেন না, ফলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, বকেয়ার কারণে মালিকরা ফার্নেস অয়েল আমদানি করতে পারেননি। বর্তমান মজুদ জ্বালানি দিয়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে আগামী মে মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে নেয়া হবে।
সূত্র: বণিকবার্তা।

এই সম্পর্কিত আরো