সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি অক্সিজেন সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অব্যবস্থাপনার চিত্র সামনে এসেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সাধারণ ওয়ার্ড এবং প্রসূতি বিভাগ ঘুরে নামমাত্র কয়েকটি সিলিন্ডার দেখা গেলেও তার প্রায় সবই খালি পাওয়া গেছে। জীবন রক্ষাকারী এমন প্রাথমিক সুরক্ষার অভাবেই সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দৈনিক সবুজ সিলেট প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে মাত্র চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এর মধ্যে তিনটি সিলিন্ডারই সম্পূর্ণ খালি। বাকি একটি ছোট সিলিন্ডারে নামমাত্র সামান্য অক্সিজেন অবশিষ্ট রয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরুরি বিভাগে একটি বড় সিলিন্ডার রাখা হলেও তা পুরোপুরি খালি। পাশে থাকা ছোট সিলিন্ডারটিতে রয়েছে সামান্য অক্সিজেন, সাধারণ ওয়ার্ডে রোগীর শয্যার পাশে রাখা বড় সিলিন্ডারটিও পুরোপুরি খালি অবস্থায় পড়ে আছে, প্রসূতি বিভাগে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই স্থানে রাখা সিলিন্ডারটিতেও কোনো অক্সিজেন নেই।
প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্বাসকষ্টের রোগী, দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত ব্যক্তি কিংবা প্রসূতি মায়েদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
অক্সিজেন সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) দাবি করেন— হাসপাতালে মোট ২৮ থেকে ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি সিলিন্ডার রিফিলের জন্য বাইরে পাঠানো হয়েছে।
তবে তাঁর এই দাবির সাথে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আবারও যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ওয়ার্ডে দুটি পূর্ণ সিলিন্ডার রাখা আছে। কিন্তু প্রতিবেদকের পুনঃসরেজমিন অনুসন্ধানেও ওই কথিত ‘পূর্ণ সিলিন্ডার’ দুটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, স্টোরকিপারের কাছে পূর্ণ সিলিন্ডার চাওয়ার পরও যদি তা সরবরাহ করা না হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রকৃত তথ্য জানতে হাসপাতালের স্টোরকিপার রূপমের সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কাগজে-কলমে ২৮-৩০টি সিলিন্ডারের কথা বলা হলেও বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য সিলিন্ডার কতটি রয়েছে এবং রিফিলের নামে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটছে—তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সিলিন্ডারের প্রকৃত সংখ্যা ও ব্যবহারযোগ্যতার সঠিক হিসাব প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি রোগীদের জীবন রক্ষায় অতিদ্রুত পর্যাপ্ত পূর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।