সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বৈরাগীবাজারের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়’ গৌরবের ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। শতবর্ষ উদযাপন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শতবর্ষ উদযাপনের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী। তিনি জানান, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ মূল উৎসব অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত তারিখ ও কর্মসূচি দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আশরাফ আলী বলেন, বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বর্তমান ও প্রাক্তন প্রজন্মের মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আমরা আয়োজনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। ইতিমধ্যে স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ, ডেটাবেজ তৈরি, বর্ণাঢ্য র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৯২৬ সালে ‘একলিমিয়া এম. ই. মাদ্রাসা’ হিসেবে যাত্রা শুরুর পর ১৯৫৭ সালে বৈরাগীবাজারে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০৯ সালে বিদ্যালয়টি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান অর্জনসহ শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করে।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ ইউসুফ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও শতবর্ষের লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন (সাবেক প্রধান শিক্ষক), আব্দুর রশিদ (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ), নূরুজ্জামান খান, আবুল কাহার হেকিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আহমেদ। এছাড়াও বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যবৃন্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শতবর্ষের এই মহোৎসবে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে উদযাপন কমিটি।